বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিসিয়াল পত্রে এ আহ্বান জানানো হয়।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, শান্তিগঞ্জ একটি হাওরবেষ্টিত উপজেলা হওয়ায় এখানকার মানুষের জীবিকা মূলত বোরো ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে অনেক জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে আধুনিক কৃষিযন্ত্র যেমন কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার ব্যবহার করে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং অতিরিক্ত শ্রম ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবীব জানান, এ বছর হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে মোট ২২ হাজার ৬১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ১৮ হাজার ৩৮১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা সম্পন্ন হয়েছে—যা মোট আবাদকৃত ধানের প্রায় ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে নন-হাওর এলাকায় ৪ হাজার ২৪১ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এর মাত্র ১০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং এসব জমি তেমন ঝুঁকিতে নেই।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনকে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে জামালগঞ্জে আনসার বাহিনীর সদস্যরা এক কৃষাণীর ধান কেটে সহায়তা করেছেন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করে কৃষকদের ঘরে বৈশাখী ধান তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।