এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ”।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পেটভরা খাবার গ্রহণে সুস্থতা নিশ্চিত হয় না; বরং খাবারে পুষ্টির সঠিক উপাদান থাকা জরুরি। বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুষ্টি সমস্যা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি একটি জাতীয় সমস্যা। তাই পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তারিক জামিল অপু প্রজেক্টরের মাধ্যমে পুষ্টির বিভিন্ন উপাদান ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সৈকত দাস, শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলি উল্লাহ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন মায়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার, এসআই নবেল সরকার, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী এনামুল হক, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. আবু উবায়দা-সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বক্তারা পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, পুষ্টি খাতে কার্যকর অগ্রগতি আনতে স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
আলোচনা সভার আগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF), সেভ দ্য চিলড্রেন (Save the Children) এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন (World Vision)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন সংস্থা সহযোগিতা করছে।
সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ প্রদান, কুইজ প্রতিযোগিতা, এতিমখানায় পুষ্টিকর খাবার বিতরণ, আলোচনা সভা, সেমিনার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টি বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।