সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অসহিষ্ণু ও জলবায়ু সহনশীল, স্বল্প জীবনকালীন উচ্চ ফলনশীল ধান বীজের পরিচিতি ও প্রচারের লক্ষ্যে কৃষি মেলার আয়োজন করেছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এসেড হবিগঞ্জ। জেএফজিই/শেয়ার দ্যা প্ল্যানেট এসোসিয়েশন, জাপান-এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এনরিচ প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বিগত ৭ মার্চ ২০২৬ থেকে এ কৃষি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
সম্প্রতি আয়োজিত এ মেলায় স্থানীয় কৃষক, কৃষাণী এবং সাধারণ জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে বন্যাসহনশীল ও স্বল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদনযোগ্য উচ্চ ফলনশীল ধান বীজের গুণাগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা।
মেলায় স্টলে উন্নত মানের ধান বীজ, কৃষি বিষয়ক তথ্যসম্বলিত পোস্টার, লিফলেট এবং প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়। কৃষি মেলায় অংশগ্রহণকারী কৃষকদের ধান চাষে আধুনিক পদ্ধতি, সময়মতো বীজ বপন এবং সঠিক সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা হয়। এতে কৃষকেরা বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা করে স্বল্প সময়ে অধিক ফলন পাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন।
মেলায় উপস্থিত ছিলেন এসেড হবিগঞ্জের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও এনরিচ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার নির্মল কুমার বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনরিচ প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার সাহা, ডিআর-সিসিএএ প্রকল্পের সহকারী প্রজেক্ট অফিসার সাজ্জাদুর রহমান, এনরিচ প্রকল্পের ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট জামিল হক ও দিপলু সুত্রধর, এবং ডিআর-সিসিএএ প্রকল্পের ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট মো. জাকারিয়া ও মোছাদ্দিক হোসেন।
মেলায় আগত কৃষকদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলে প্রায়ই আগাম বন্যার কারণে ধান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বন্যাসহনশীল ও স্বল্প জীবনকালীন ধান জাত চাষ করলে কৃষকেরা আগাম বন্যার ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এতে কৃষকের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তাদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে।
এসেড হবিগঞ্জ কর্তৃপক্ষ জানায়, এনরিচ প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম পাগলা ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের মোট ২০টি এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মেলা পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার কৃষক ও সাধারণ জনগোষ্ঠী উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও মানসম্মত ধান বীজ সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এ ধরনের কৃষি মেলা তাদের জন্য খুবই উপকারী। এতে নতুন ধান জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।