মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মৎস্য অধিদপ্তর-এফএও উদ্যোগে শান্তিগঞ্জে মুক্তা চাষে আশার আলো শান্তিগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ সুনামগঞ্জ আইডিয়াল একাডেমিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মেধা পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন সুনামগঞ্জ আইডিয়াল একাডেমিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মেধা পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এক প্রভাষকের শান্তিগঞ্জে নির্বিঘ্নে বোরো ধান কর্তন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে মামলাবাজির অভিযোগে হয়রানির শিকার পরিবার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা শান্তিগঞ্জে নিরীহ পরিবারে হামলা, থানায় অভিযোগ সুবিপ্রবিতে দ্বিতীয় ধাপে ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

মৎস্য অধিদপ্তর-এফএও উদ্যোগে শান্তিগঞ্জে মুক্তা চাষে আশার আলো

স্টাফ রিপোর্টার::
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মুক্তা চাষে সাফল্যের সম্ভাবনা জেগে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই অঞ্চলে মুক্তা চাষে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা এখন আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বাস্তবায়নাধীন কমিউনিটি বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে ২৫ জন নারী-পুরুষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যাদের পরিচয় সিবিও (কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন)।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর গ্রামে ২০২৩ সালের জুন মাসে ১৫ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী নিয়ে মোট ২৫ সদস্যবিশিষ্ট মুক্তা চাষ সিবিও গঠন করা হয়। জলাশয়ে মাছের পাশাপাশি শামুক ও ঝিনুক জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই ঝিনুককে বিশেষ পদ্ধতিতে পুকুরে স্থাপন করে মুক্তা উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের অক্টোবরে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে সিবিও সদস্যরা।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI)-এর বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করা হয়। ইমেজ প্রতিস্থাপন পদ্ধতিতে মুক্তা চাষের জন্য প্রকল্প থেকে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সরবরাহ করা হয়। সদরপুর গ্রামের নির্ধারিত ৩৩ শতাংশের একটি পুকুরে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ইমেজ ইনোকুলেশনের পর ২০০০টি ঝিনুক নেট ব্যাগে রেখে পানির মধ্যে লম্বালম্বিভাবে টানানো রশিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কিছু রুই জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করা হয়।
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সিবিওকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা আরপিডব্লিউএস-এর প্রধান নির্বাহী নাজিম উদ্দিন।
সম্প্রতি, ২০২৬ সালের ০৭ এপ্রিল মুক্তা আহরণের লক্ষ্যে পুকুরটি শুকানো হলে ১৪৫৪টি ঝিনুক এবং প্রায় ৩০০ কেজি মাছ পাওয়া যায়। পরে ঝিনুক থেকে বিশেষ কৌশলে ৬৪৭টি মুক্তা আহরণ করা হয়। বর্তমানে এসব মুক্তাকে কাটিং ও ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে বাজারজাত উপযোগী করতে বিভিন্ন সংস্থা ও জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
শান্তিগঞ্জের এই সফল উদ্যোগ এখন সিবিও সদস্যদের সামনে নতুন স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে। পুকুরে ঝিনুক, হাতে মুক্তা—এই বাস্তবতা সম্ভব হয়েছে তাদের কার্যকর প্রশিক্ষণ গ্রহণ, সঠিক বাস্তবায়ন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে।
সিবিওর সদস্যরা তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সফলতা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তারা ভবিষ্যতেও মুক্তা চাষ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

প্রিন্ট

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর