বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রী রামকৃষ্ণদেবের ১৯১তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বার্ষিক উৎসব পালিত ডুংরিয়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি মনু মিয়া আর নেই শান্তিগঞ্জে এসেড হবিগঞ্জ আয়োজিত এনরিচ প্রকল্পের উপজেলা রেজাল্ট শেয়ারিং সভা অনুষ্ঠিত। শান্তিগঞ্জে নৃশংস হামলা; প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ যুবকের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শান্তিগঞ্জে সংঘর্ষ: আহত ১০, দোকান-বাড়ি ভাঙচুর, আটক ৭ ঈদ ভ্রমণই হলো কাল: শান্তিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু শান্তিগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ শান্তিগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সহায়তা বিতরণ শান্তিগঞ্জে গণপাঠাগারের উদ্যোগে দুঃস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শান্তিগঞ্জে সংঘর্ষ: আহত ১০, দোকান-বাড়ি ভাঙচুর, আটক ৭

স্টাফ রিপোর্টার::
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১৮২ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী (৪৫)-কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (২২ মার্চ) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার পাথারিয়া বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

সংঘর্ষের সময় বাজারের অন্তত ৩টি দোকান ও ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে সেনাবাহিনী, পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

 

স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষই স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপ—ফারুক আহমদ ও আনছার উদ্দিনের সমর্থক।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গাজীনগর গ্রামের আব্দুল মমিন মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার লোকজনের মধ্যে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত ৯টার দিকে সালিস বৈঠক বসে। তবে বৈঠকের মধ্যেই মনির মিয়ার পক্ষের লোকজন আঙ্গুর মিয়ার মালিকানাধীন বারাকাত রেস্টুরেন্টে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে আঙ্গুর মিয়ার সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

 

সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতিতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

 

আঙ্গুর মিয়া অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের দোকানপাটে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করা হয়েছে। তার দাবি, বারাকাত রেস্টুরেন্ট থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং রিহান স্টোর থেকে আড়াই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। এছাড়া তার পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

 

অন্যদিকে আব্দুল মমিন মনির মিয়া বলেন, ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হয়, যার জেরে সংঘর্ষ বাধে। তিনি দাবি করেন, আঙ্গুর মিয়ার লোকজনের হামলায় তাদের পক্ষের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

এ ঘটনায় আহত মোহাম্মদ আলীর পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের জেরে তার বসতবাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

এবিষয়ে মোহাম্মদ আলীর ভাই আবুল কাশেম জানান, ঘটনার সময় আমার ভাই বাজারে ছিলেন। যখন আংগুর মিয়া ও আক্কাছ মেম্নারের পক্ষের লোকজন আব্দুল মমিন মনির মিয়া পক্ষের লোকজনের উপর হামলা চালায় তখন আমার ভাই শালিসি করতে গেলে তার উপর রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা করে গুরুতর আহত করে আংগুর মিয়া ও আক্কাছ মেম্বারের পক্ষের লোকজন।

 

শান্তিগঞ্জ থানার ওসি ওয়ালীউল্লাহ জানান, সেনাবাহিনীর আটক করা ৭ জনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


প্রিন্ট

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর