সুনামগঞ্জে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), আঞ্চলিক কার্যালয় সুনামগঞ্জের উদ্যোগে ধান গবেষণা ও কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রামে অর্ধশতাধিক ধানের জাত নিয়ে একটি রাইস মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। এই রাইস মিউজিয়াম কৃষকদের জন্য একটি উন্মুক্ত শেখার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে। মাঠপর্যায়ে সরাসরি বিভিন্ন ধানের জাতের বৈশিষ্ট্য, বৃদ্ধি ও ফলন সম্ভাবনার তুলনামূলক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কৃষকরা স্থানীয় পরিবেশ ও মৌসুম উপযোগী উচ্চফলনশীল হাওর অঞ্চলের উপযোগী আধুনিক জাত নির্বাচন করতে পারবে। এছাড়া, টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রি সুনামগঞ্জের উদ্যোগে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় গত ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ইং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সুনামগঞ্জের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মোঃ রেজওয়ান ভূইয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকবৃন্দ। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ধান বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষি উপকরণ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নত জাতের বীজ প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষকরা অধিক ফলন পেতে সক্ষম হবেন। ড. মোঃ রেজওয়ান উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরনের সময় উপস্থিত কৃষকদের এলএসটিডি প্রকল্পের উদ্দেশ্য, মাঠ পর্যায়ে চলমান বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম, প্রর্দশনী স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণসহ কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এবং টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ব্রির চলমান প্রচেষ্ঠা সর্ম্পকে উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন। উল্লেখ্য, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং ফলন বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। উপকারভোগী কৃষকরা এ উদ্যোগের জন্য ব্রি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান।