শান্তিগঞ্জে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক এক নিরীহ ও প্রতিবন্ধী পরিবারের জায়গা দখল করে পাকা বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্মুর গ্রামের মৃত কাজি লোকমান মিয়ার ছেলে কাজি শাখাওয়াত একই গ্রামের আফিল উদ্দিনের ছেলে নবী হোসেন, নজরুল ইসলাম, ফজলু মিয়া ও কামরুল মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী কাজি শাখাওয়াত তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, এই ভূমির এস.এ রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন আমার দাদা কাজি আপ্তাব মিয়া গং। পরবর্তীতে আমার দাদার ত্যাজ্যবিত্তে আমার বাবা মৃত কাজি লোকমান ও চাচা মৃত কাজি আব্দুল কাদিরকে রেখে যান। উনারা সকলের জ্ঞাতসারে সরেজমিনে ভূমির ভোগ দখলে ছিলেন। পরবর্তীতে আমার চাচা নিঃসন্তান অবস্থায় এবং আমার বাবা ও অপরাপর ভাই-বোন রেখে মারা গেলে আমরা মৌরসী সূত্রে বর্ণিত ঘোড়াডুম্বুর মৌজার ভূমির ১০৯ নং এস খতিয়ানের ১০৯০ ও ১৭৯৮ দাগের, আরএস খতিয়ান নং ৩৪৯, আর এস দাগ নং ২৩৭১ ও ২৩৭২ দাগে ৫ শতক ভূমির মালিক ও ভোগ দখলকার হই। উক্ত ভূমিতে আমার স্বত্ব ও ভোগ দখল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করায় প্রতিপক্ষগণ আমার মৌরশী সম্পত্তির দিকে জোরপূর্বক তাদের দখলে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। এই ধারাবাহিকতায় গত ৫ মার্চ ২০২৬ রোজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ভূমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে পাকাঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে খবর পেলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে আমাদের মালিকানাধীন জায়গায় পাকাঘর নির্মাণে বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষ অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তারা আমাকে মারধরের জন্য উদ্যত হয়। এ সময় তারা বাঁশের লাঠি, লোহার রডসহ প্রাণনাশক অস্ত্রাদি নিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। তখন আমি প্রাণের ভয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন হুমকি দেয় যে যেকোনোভাবে ভূমিতে জোরপূর্বক দখলসহ পাকাঘর নির্মাণ করবে।
তিনি বলেন, আমি নিরীহ, প্রতিবন্ধী ও একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ। প্রতিপক্ষের এহেন আচরণে নিরুপায় হয়ে গত ৮ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সুনামগঞ্জে বিবিধ মোকদ্দমা ১৭৭/২০২৬ (শান্তিগঞ্জ) দায়ের করি। আদালত উক্ত মামলার আলোকে আগামী ২৬ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত তপশীল বর্ণিত ভূমিতে উভয় পক্ষকে স্ব স্ব অবস্থানে থেকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আদেশ দেন। উক্ত আদেশ শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে নোটিশ আকারে গত ৯ মার্চ ২০২৬ ইং ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে প্রদান করা হয়।
কিন্তু প্রতিপক্ষ বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে উক্ত জায়গায় জোরপূর্বক পাকাঘর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উক্ত ঘরের কাজ বন্ধ এবং তার মালিকানাধীন জায়গা ফেরত পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাজি শাখাওয়াত হোসেনের বড় প্রতিবন্ধী ভাই কাজি জুলহাস মিয়া।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের নবী হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমাদের পৈত্রিক ভূমিতে ঘর নির্মাণ করছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা পেয়ে ঘরের কাজ বন্ধ রেখেছি।”
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়ালীউল্লাহ বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”