শান্তিগঞ্জে প্রভাবশালী কর্তৃক জোরপূর্বক এক নিরীহ পরিবারের জায়গা দখল করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে।
বুধবার(২৫ মার্চ) বিকালে পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ইশাদ আলীর ছেলে মো. জমির আলী একই গ্রামের মৃত আবুল বাশারের ছেলে সেবুল মিয়া, রেজাউলসহ তাদের পরিবারের মহিলাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির আলী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, পিতার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি তারা তিন ভাই সমান অংশে ভাগভাটোয়ারা করে ভোগদখলে আছেন। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে আসার পর আর্থিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় তার মালিকানাধীন ৬ শতক জায়গা বিক্রয়ের জন্য বিগত ৪ বছর পূর্বে উদ্যোগ নিয়ে একই গ্রামের উমর আলীর কাছ থেকে বায়না স্বরূপ কিছু টাকা গ্রহণ করেন।
সেই খবর পাওয়া মাত্র ভুক্তভোগীর আপন ভাতিজা সেবুল ও রেজাউল উক্ত ভূমি নিজে ক্রয় করার জন্য তার কাছে প্রস্তাব পাঠায়। তখন তিনি তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেবুল এলাকার সালিশ ব্যক্তিগণের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে গ্রাম ও এলাকার সালিশ ব্যক্তিগণ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উপস্থিতিতে কয়েকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সালিশ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, জমির আলীর ভাতিজা উক্ত জায়গার মূল্য স্বরূপ তাকে আট লক্ষ টাকা প্রদান করবে এবং জমির আলী উক্ত জায়গা সেবুলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেবেন।
কিন্তু চার বছর আগে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও বারবার যোগাযোগ করলেও সেবুলসহ তার পরিবারের লোকজন বর্তমানে টাকা দিতে অস্বীকার করে এবং জমির আলীর জমি দখল করে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়াও, উক্ত জায়গা পরিষ্কার করা ও গাছপালা লাগাতে গেলে প্রবাসে থাকা সেবুল হোসেনের নির্দেশে বাড়িতে থাকা মহিলারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমির আলীকে মারধরের চেষ্টা করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ সময় তাকে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয় যে, উক্ত জায়গা তারা জোরপূর্বক দখল করে রাখবে।
এ অবস্থায় জমির আলী বুধবার (২৫ মার্চ) নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং ২৪ মার্চ শান্তিগঞ্জ থানায় সেবুল হোসেন গংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তার মালিকানাধীন জায়গা ফিরে পেতে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জমির আলীর প্রতিপক্ষ তার ভাতিজা সেবুল মিয়া এবং রেজাউল মিয়ার পরিবারের বক্তব্য নিতে চাইলে তাদের কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো৷ ওলি উল্লাহ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এমন একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের আলোকে এবং তার তদন্তসাপেক্ষে এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাহী সম্পাদক - মো: নুরুল হক, সম্পাদক ও প্রকাশক: সামিউল কবির, উপ-সম্পাদক : খালেদ হাসান, বার্তা সম্পাদক : ছায়াদ হোসেন সবুজ
অফিস : সুলতানপুর রোড, শান্তিগঞ্জ বাজার, সুনামগঞ্জ। মোবাইল : ০১৭১২-৬৪৫৭০৫, ই-মেইল : dsunam24@gmail.com